SSC 6th Week Assignment Answer 2022 – এসএসসি ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এ্যাসাইমেন্ট সমাধান ২০২২ – Assignment SSC 6th Week Solution

 

SSC 6th Week Assignment 2022

 

SSC Chemistry 6th Week Assignment 2022

SSC Chemistry 6th Week Assignment 2022

রাসায়নিক গুদাম থেকে প্রায়ই দুর্ঘটনার কথা শোনা যায়। এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে সাধারণত আগুনের সংস্পর্শে রাসায়নিক দ্রব্য টি আসার কারণে। রাসায়নিক দ্রব্যাদি যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনায় জানমালের প্রচুর ক্ষতি হয়। আমরা যখন পরীক্ষাগারে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ে কাজ করি তখনও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ প্রেক্ষিতে তোমার বিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরির নিরাপদ রাখা এবং দুর্ঘটনা রোধ করার উপায় সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করো।

নির্দেশনা:

  • ল্যাবরেটরীতে নিরাপদ উপকরণের বর্ণনা
  • রাসায়নিক দ্রব্যের বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নের ব্যাখ্যা
  • ল্যাবরেটরির রাসায়নিক দ্রব্যকে নিরাপদ উপায় সাজানোর ধারণা ব্যাখ্যা
  • রাসায়নিক দুর্ঘটনা রোধ করার উপায় বর্ণনা
  • পাঠ্য বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের আলোকে প্রতিবেদন লেখা

Chemistry 6th Week SSC Assignment Answer 2022

ল্যাবরেটরীতে নিরাপদ উপকরণ

ল্যাবরেটরীতে নিরাপদ উপকরণ

রাসায়নিক দ্রব্যের বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নের ব্যাখ্যা

রাসায়নিক দ্রব্যের বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নের ব্যাখ্যা

ল্যাবরেটরির রাসায়নিক দ্রব্যকে নিরাপদ উপায় সাজানোর ধারণা

SSC Accounting 6th Week Assignment 2022

SSC Accounting 6th Week Assignment 2022

বিষয়: হিসাববিজ্ঞান, বিষয় কোড: ১৪৬, স্তর: এসএসসি, অ্যাসাইনমেন্ট নাম্বার: ১

অ্যাসাইনমেন্ট: “লেনদেনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লেনদেন চিহ্নিতকরণ ও হিসাব সমীকরণের প্রভাব নিরূপণ”।

সহায়ক তথ্য:

একটি মালিকানা ব্যবসায় এর ২০২০ সালের মে মাসের কয়েকটি ঘটনা নিম্নরূপ-

মে ১: ১,৯৫,০০০ টাকা মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করা হলো।

মে ৩: নগদে পণ্য ক্রয় ৬০,০০০  টাকা।

মে ৪: চেকে পণ্য বিক্রয় ৪৫,০০০  টাকা।

মে ১০: ব্যাংকে একটি হিসাব খোলা হল ৫,০০০  টাকা।

মে ১৩: ব্যাংক থেকে ৫০,০০০  টাকা ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

মে ১৬: বীমা প্রিমিয়াম প্রদান করা হলো  ৩,০০০  টাকা।

মে ২০: অফিসে ব্যবহারের জন্য ১টি কম্পিউটার ক্রয় করা হল ৩৫,০০০  টাকা।

মে ২২: ১২,০০০ টাকা মাসিক বেতনে একজন অফিস সহকারি নিয়োগ করা হলো।

মে ২৫: হারুন ট্রেডার্সকে চেকে পরিশোধ করা হলো।

মে ২৮: মালিক কর্তৃক ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৫,০০০  টাকা।

মে ৩০: অফিসের জন্য ব্যাংক থেকে উত্তোলন ১০,০০০ টাকা।

শিখনফল বা বিষয়বস্তু

  • লেনদেনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • লেনদেনের প্রকৃতি শনাক্ত করতে পারব।
  • হিসাব সমীকরণ বিশ্লেষণ করতে পারব।
  • হিসাব সমীকরণের ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।

নির্দেশনা

  • লেনদেনের ধারণা
  • লেনদেনের প্রকৃত/বৈশিষ্ট্য
  • লেনদেন চিহ্নিতকরণ
  • হিসাব সমীকরণ
  • হিসাব সমীকরণের লেনদেনের প্রভাব বিশ্লেষণ

6th Week SSC Accounting Assignment 2022 Answer

লেনদেনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লেনদেন চিহ্নিতকরণ ও হিসাব সমীকরণের প্রভাব নিরূপণ

লেনদেনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লেনদেন চিহ্নিতকরণ ও হিসাব সমীকরণের প্রভাব নিরূপণ লেনদেনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লেনদেন চিহ্নিতকরণ ও হিসাব সমীকরণের প্রভাব নিরূপণ

লেনদেনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লেনদেন চিহ্নিতকরণ ও হিসাব সমীকরণের প্রভাব নিরূপণ লেনদেনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লেনদেন চিহ্নিতকরণ ও হিসাব সমীকরণের প্রভাব নিরূপণ

লেনদেনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লেনদেন চিহ্নিতকরণ ও হিসাব সমীকরণের প্রভাব নিরূপণ

SSC History 6th Week Assignment 2022

SSC History 6th Week Assignment 2022

বিষয়: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  বিষয় কোড: 153, স্তর: এসএসসি, অ্যাসাইনমেন্ট নাম্বার: 01, প্রথম অধ্যায়: ইতিহাস পরিচিতি।

অ্যাসাইনমেন্ট: তোমার দেখা কোন ঐতিহাসিক নিদর্শন (যেমন: প্রাচীন মসজিদ/মন্দির, জমিদারবাড়ি, মুদ্রা, শিলালিপি ইত্যাদি) ইতিহাসের কোন ধরনের উপাদান বিশ্লেষণ পূর্ব ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন কর।

শিখনফল বিষয়বস্তু

  • ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারণা, স্বল্প পরিসর ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • ইতিহাসের উপাদান ও প্রকারভেদ বর্ণনা করতে পারব;
  • ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করতে পারব;

নির্দেশক

  • ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা;
  • ইতিহাসের উপকরণ উল্লেখ;
  • ইতিহাসের গুরুত্ব
  • ইতিহাসের প্রয়োজনীয়তা

SSC History 6th Week Assignment Answer 2022

SSC History 6th Week Assignment 2022 Answer

SSC History 6th Week Assignment 2022 Answer

SSC History 6th Week Assignment 2022 Answer

Islam and Moral Education SSC 6th Week Assignment 2022

Islam and Moral Education SSC 6th Week Assignment 2022

বিষয়: ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বিষয় কোড: ১১১, শ্রেণী: এসএসসি ২০২২ (দশম শ্রেণি), প্রথম অধ্যায় আকাইদ ও নৈতিক জীবন।

অ্যাসাইনমেন্ট: সৎকর্মশীল ও নৈতিক জীবন গঠনে আখিরাতে বিশ্বাস এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন।

শিখনফল বিষয়বস্তু

নৈতিক জীবন গঠনে আখিরাতে বিশ্বাসের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারবে।
আখিরাতে বিশ্বাস ও এর তাৎপর্য অনুধাবন করে পাপমুক্ত, সৎকর্মশীল, নীতিবান, মানবহিতৈষী ব্যক্তি হিসেবে জীবন গঠনে অনুপ্রাণিত হবে।

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি)

আখেরাতের ধারণা
আখিরাতে বিশ্বাস এর প্রয়োজনীয়তা
আখিরাতে বিশ্বাসীদের করণীয়
আখেরাতের বিশ্বাস এর প্রভাব।

SSC 6th Week Islam and Moral Education Assignment Answer 2022

সৎকর্মশীল ও নৈতিক জীবন গঠনে আখিরাতে বিশ্বাসের ভূমিকা বিশ্লেষণ

সৎকর্মশীল ও নৈতিক জীবন গঠনে আখিরাতে বিশ্বাস এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন এর নমুনা উত্তর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে তথ্য নিয়ে প্রশ্নের নির্দেশনা মেনে নিজেদের মতো করে প্রতিকেদন প্রস্তুত করে নাও।

আখিরাতের ধারণা:

আখিরাত অর্থ পরকাল। মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলা হয়। মানবজীবনের দুটি পর্যায় রয়েছে। ইহকাল ও পরকাল। ইহকাল হলো দুনিয়ার জীবন। আর মৃত্যুর পরে মানুষের যে নতুন জীবন শুরু হয় তার নাম পরকাল বা আখিরাত।

আখিরাত অনন্তকালের জীবন। এ জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। এটি মানুষের চিরস্থায়ী আবাস। আখিরাতে মানুষের দুনিয়ার কাজকর্মের হিসাব নেওয়া হবে। অতঃপর ভালো কাজের পুরস্কার স্বরূপ জান্নাত এবং মন্দ কাজের জন্য জাহান্নামের শাস্তি দেওয়া হবে।

আখিরাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা:

আখিরাত ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামি জীবনদর্শনে আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন অপরিহার্য। এ বিশ্বাসের গুরুত্বও অপরিসীম। আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া মুমিন ও মুত্তাকি হওয়া যায় না। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন-
“আর তারা (মুত্তাকিগণ) আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৪)

তাওহিদ ও রিসালাতে বিশ্বাসের পাশাপাশি আখিরাতেও বিশ্বাস করা অত্যাবশ্যক। আখিরাতে বিশ্বাস না করলে কেউ মুমিন বা মুসলিম হতে পারে না। পরকালীন জীবনের সফলতা ও জান্নাত লাভ করার জন্যও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আখিরাতে বিশ্বাস না করলে মানুষ সত্যপথ থেকে দূরে সরে যায়, পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-

“আর কেউ আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ এবং আখিরাত দিবসের প্রতি অবিশ্বাস করলে সে তো ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৩৬)

আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্য কাজ করতে উৎসাহ যোগায়। কেননা আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি জানে যে, পরকালে তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, দুনিয়ার সব কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে। ফলে বিশ্বাসী ব্যক্তি দুনিয়াতে সৎকাজে উৎসাহিত হয় এবং অসৎকাজ থেকে বিরত থাকে। এভাবে মানুষ অসৎচরিত্র বর্জন করে সৎচরিত্রবান হয়ে ওঠে। অপরদিকে আখিরাতে যে অবিশ্বাস করে সে সুযোগ পেলেই পাপাচার ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। কেননা সে পরকালীন জবাবদিহিতে বিশ্বাসী নয়। এভাবে আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাস মানবসমাজে অত্যাচার ও পাপাচার বৃদ্ধি করে। আখিরাতে বিশ্বাসী মানুষ কখনো পাপাচার ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হতে পারে না।

আখেরাতের বিশ্বাস এর প্রভাব এবং আখিরাতের জীবনের কয়েকটি স্তর:

অন্যদিকে, আখিরাতে বিশ্বাস মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানবজীবনকে কলুষমুক্ত, পবিত্র ও সুন্দর করে তোলে। সুতরাং পরকালের সফলতা অর্জনের জন্য মানুষের আখেরাতের বিশ্বাস এর প্রভাব অনেক। নিচে আখিরাতের জীবনের কয়েকটি স্তরের বর্ণনা দেওয়া হলো:

ক. মৃত্যু

আখিরাত বা পরকালীন জীবনের শুরু হয় মৃত্যুর মাধ্যমে। সুতরাং মৃত্যু হলো পরকালের প্রবেশদ্বার।
আল্লাহ তাআলা সকল প্রাণীর মৃত্যু নির্ধারণ করে রেখেছেন।

তিনি বলেন –
“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। ”(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)

দুনিয়ার কোনো প্রাণীই মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাবে না। ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, সুস্থ-অসুস্থ, শাসক শাসিত কেউই মৃত্যুকে এড়াতে পারবে না। যত বড় ক্ষমতাধারীই হোক আর যত সুরক্ষিত স্থানে বসবাস করুক সবার নির্দিষ্ট সময়ে মৃত্যু হবেই। এ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীরও মৃত্যু অনিবার্য।
আল্লাহ্ তায়ালা বলেন—
“তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান
করলেও।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৭৮)

মৃত্যুর সাথে সাথে আখিরাতের জীবন শুরু হয়। পুণ্যবান মানুষের মৃত্যু হয় আল্লাহ তায়ালার রহমতের সাথে। আর পাপীদের মৃত্যু খুব কষ্টকর হয়।

খ. কবর

মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়কে কবরের জীবন বলা হয়। এর অপর নাম বারযাথ।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
“আর তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।” (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১০০)

দুনিয়াতে মানুষকে মৃত্যুর পর কবরস্থ করা হয়। এসময় মুনকার-নাকির নামক দুজন ফেরেশতা কবরে আসেন। তাঁরা মৃত ব্যক্তিকে তিনটি প্রশ্ন করেন। এগুলো হলো
– তোমার রব কে?
-তোমার দীন কী?
-তোমার নবি কে?
অথবা, (রাসুল (স.) এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়) এই ব্যক্তি কে?

যাদের কবর দেওয়া হয় না তাদেরও এ প্রশ্ন করা হবে। দুনিয়াতে যারা ইসলাম অনুসারে জীবন পরিচালনা করবে তারা এ প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দিতে পারবে। তাদের জন্য কবরের জীবন হবে শান্তিময়। আর যারা ইসলাম অনুসরণ করবে না তারা এসব প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে না। তারা বলবে ‘আফসোস। আমি জানি না।’ কবরের জীবনে তারা কঠোর শাস্তি ভোগ করবে।

গ. কিয়ামত

আকাইদ শাস্ত্রে কিয়ামত বলতে দুটি অবস্থাকে বোঝানো হয়। প্রথমত: কিয়ামত অর্থ মহাপ্রলয়। আল্লাহ তায়ালা এ গোটা বিশ্ব মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষকে তাঁর ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু এমন একদিন আসবে যখন গোটা বিশ্বে মহান আল্লাহর ইবাদত করার মতো কেউ থাকবে না। এমনকি আল্লাহ নাম নেওয়ার মতোও কাউকে পাওয়া যাবে না। সকল মানুষ গোমরাহি ও নাফরমানিতে লিপ্ত হয়ে পড়বে। সেসময় আল্লাহ তায়ালা এ পৃথিবী ধ্বংস করে দেবেন। তাঁর নির্দেশে হযরত ইসরাফিল (আ.) শিঙ্গায় ফুঁক দেবেন। ফলে চন্দ্র-সূর্য ও তারকারাজি খসে পড়বে, পাহাড় পর্বত তুলার ন্যায় উড়তে থাকবে, ভূগর্ভস্থ সবকিছু বের হয়ে যাবে, সকল প্রাণী মৃত্যু বরণ করবে এবং গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এ সময় শুধু আল্লাহ তায়ালা থাকবেন। আর কেউ বিদ্যমান থাকবে না। পৃথিবী ধ্বংসের এ মহাপ্রলয়ের নাম কিয়ামত।

দ্বিতীয়ত: কিয়ামতের অন্য অর্থ দাঁড়ানো। পৃথিবী ধ্বংসের বহুদিন পর আল্লাহ্ তায়ালা আবার সকল জীব ও প্রাণীকে জীবিত করবেন। আল্লাহর নির্দেশে ইসরাফিল (আ.) পুনরায় শিঙ্গায় ফুঁক দেবেন। তখন মানুষ পুনরায় জীবিত হয়ে কবর থেকে উঠে হাশরের ময়দানে হিসাব নিকাশের জন্য সমবেত হবে। ঐ সময়ে কবর থেকে উঠে দাঁড়ানোকে বলা হয় কিয়ামত। একে ‘ইয়াওমুল’ বা ‘আছ’ বা পুনরুত্থান দিবসও বলা হয়। কিয়ামতের এ উভয়বিধ অবস্থা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন

“আর শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। ফলে যাদের আল্লাহ ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকলেই মূর্ছিত হয়ে পড়বে। অতঃপর আবার শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখনই তারা দণ্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে।” (সূরা আয্-যুমার, আয়াত ৬৮)

ঘ. হাশর

হাশর হলো মহাসমাবেশ। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে সকল মানুষ ও প্রাণীকুল মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবে। সকলেই সেদিন একজন আহবানকারী ফেরেশতার হাশরের ময়দানে সমবেত ময়দান বিশাল ও সুবিন্যস্ত। পৃথিবীর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষই সেদিন একত্রিত হবে। মানুষের এ মহাসমাবেশকেই হাশর বলা হয়। হাশরের ময়দান হলো হিসাব নিকাশের দিন, জবাবদিহির দিন। এদিন আল্লাহ তায়ালা হবেন একমাত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন-

“তিনি (আল্লাহ) বিচার দিবসের মালিক।” (সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ৩)

সেদিন সকল মানুষের সমস্ত কাজকর্মের হিসাব নেওয়া হবে। হাশরের ময়দানে মানুষের আমলনামা দেওয়া হবে। যাঁরা পুণ্যবান তারা ডান হাতে আমলনামা লাভ করবেন। আর পাপীরা বাম হাতে আমলনামা পাবে।
হাশরের ময়দান ভীষণ কষ্টের স্থান। সেদিন সূর্য মাথার উপর একেবারে নিকটে থাকবে। মানুষ প্রচণ্ড তাপে ঘামতে থাকবে। সেদিন আল্লাহ তায়ালার আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। সাত শ্রেণির লোক সেদিন আরশের ছায়াতলে স্থান পাবে। এদের মধ্যে একশ্রেণি হলো সেসব ব্যক্তি যৌবনকালে আল্লাহর ইবাদত করেছে। হাশরের ময়দানে পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। একমাত্র হাউজে কাউছারের পানি থাকবে। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) সেদিন তাঁর খাঁটি উম্মতগণকে হাউজে কাউছার থেকে পানি পান করাবেন। পাপীরা সেদিন তৃষ্ণায় নিদারুণ কষ্ট ভোগ করবে।

বস্তুত পুণ্যবানগণ হাশরের ময়দানে নানাবিধ সুবিধাজনক স্থান লাভে ধন্য হবেন। পক্ষান্তরে পাপীরা হাশরের ময়দানেই কঠোর শাস্তি ভোগ করবে।

ঙ. মিযান

মিযান অর্থ পরিমাপক যন্ত্র বা দাঁড়িপাল্লা। হাশরের ময়দানে মানুষের আমলসমূহ ওজন করার জন্য আল্লাহ তায়ালা যে পাল্লা প্রতিষ্ঠা করবেন তাকে মিযান বলা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন –

“আর আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৪৭)

মিযানের পাল্লায় মানুষের পাপ পুণ্য ওজন করা হবে। যার পুণ্যের পাল্লা ভারী হবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে সে হবে জাহান্নামি।

চ. সিরাত

সিরাত এর শাব্দিক অর্থ পথ, রাস্তা, পুল, সেতু ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের ভাষায় সিরাত হলো হাশরের ময়দান হতে জান্নাত পর্যন্ত জাহান্নামের উপর দিয়ে চলমান একটি উড়াল সেতু। (তিরমিযি)

এ সেতু পার হয়ে নেক আমলকারী বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। আখিরাতে সকল মানুষকেই এ সেতুতে আরোহণ করে তা অতিক্রম করতে হবে। সিরাত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন,

“এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে, এটা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।” (সূরা মারইয়াম, আয়াত ৭১)

এ সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেন,

“জাহান্নামের উপর সিরাত স্থাপিত হবে।” (মুসনাদে আহমাদ)

নেক আমলকারী বান্দাগণকে মহান আল্লাহ জান্নাতে যাওয়ার অনুমতি দেবেন। জান্নাতিগণ সিরাতের উপর দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। নেককারদের জন্য তাঁদের আমল অনুসারে সিরাত প্রশস্ত হবে। ইমানদারগণ নিজ নিজ আমল অনুযায়ী সিরাত অতিক্রম করবেন। কেউ বিদ্যুৎগতিতে, কেউ ঝড়ের গতিতে, কেউ ঘোড়ার গতিতে, কেউবা দৌড়ের গতিতে, কেউ হেঁটে হেঁটে আবার কেউ কেউ হামাগুড়ি দিয়ে সিরাত পার হবেন।

সিরাত হলো অন্ধকার পুল। সেখানে মুমিন ও নেক আমলকারী ব্যক্তির জন্য আলোর ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু যারা ইমানদার নয় এবং পাপী তাদের জন্য কোনো আলোর ব্যবস্থা থাকবে না। সুতরাং দুনিয়ায় যে দৃঢ় ইমান ও বেশি নেক আমলের অধিকারী সিরাত তাঁর জন্য সবচেয়ে বেশি আলোকিত হবে। ইমানের আলোতে সে সহজেই সিরাত অতিক্রম করবে।

অন্যদিকে যারা ইমানদার নয় এবং পাপী মহান আল্লাহ তাদের জাহান্নামে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। জাহান্নামিদের জন্য সিরাত অত্যন্ত ভয়াবহ স্থান। তাদের জন্য সিরাত হবে চুলের চাইতেও সূক্ষ্ম এবং তরবারি অপেক্ষা ধারালো। এ অবস্থায় সিরাতে আরোহণ করে তারা কিছুতেই তা অতিক্রম করতে পারবে না। বরং তারা করুণভাবে জাহান্নামে পতিত হবে।

ছ. শাফাআত

শাফাআত শব্দের অর্থ সুপারিশ করা, অনুরোধ করা ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণের সুপারিশ করাকে শাফাআত বলে।

কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা মানুষের সকল কাজকর্মের হিসাব নেবেন। তারপর আমল অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারণ করবেন। তখন মহান আল্লাহ পুণ্যবানগণকে জান্নাতে ও পাপীদের জাহান্নামে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। নবি-রাসুল ও পুণ্যবান বান্দাগণ এ সময় আল্লাহর দরবারে শাফাআত করবেন। ফলে অনেক পাপীকে মাফ করা হবে। এরপর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। আবার অনেক পুণ্যবানের জন্যও এদিন শাফাআত করা হবে। ফলে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।

কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে এক বিশাল ময়দানে সমবেত করা হবে। সেদিন সূর্য খুব নিকটবর্তী হবে। মানুষ অসহনীয় দুঃখ-কষ্টে নিপতিত থাকবে। এ সময় তারা হযরত আদম (আ.), হযরত নূহ (আ.), হযরত ইবরাহিম (আ.), হযরত মুসা (আ.) ও হযরত ঈসা (আ.) এর নিকট উপস্থিত হয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করার জন্য আল্লাহর নিকট শাফাআত করতে অনুরোধ করবে। তাঁরা সকলেই অপারগতা প্রকাশ করবেন। এ অবস্থায় সকল মানুষ মহানবি (স.)-এর নিকট উপস্থিত হবে। তখন মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহ তায়ালার নিকট সুপারিশ করবেন।

অন্যদিকে কিয়ামতের দিন পাপীদের ক্ষমা ও পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য শাফাআত করা হবে। নবি-রাসুল, ফেরেশতা, শহিদ, আলেম, হাফিয এ শাফাআতের সুযোগ পাবেন। আল-কুরআন ও সিয়াম (রোযা) কিয়ামতের দিন শাফাআত করবে বলেও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিয়ামতের দিন নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণ আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তায়ালা এসব শাফাআত কবুল করবেন এবং বহু মানুষকে জান্নাত দান করবেন। তবে শাফাআতের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা থাকবে আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর অধিকারে। তিনি নিজেই বলেছেন-
“আমাকে শাফাআত করার অধিকার) দেওয়া হয়েছে।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

অন্য একটি হাদিসে রাসুল (স.) বলেছেন- “পৃথিবীতে যত ইট ও পাথর আছে, আমি তার চেয়েও বেশি লোকের জন্য কিয়ামতের দিন শাফাআত করব।” (মুসনাদে আহমাদ)

শাফাআত একটি বিরাট নিয়ামত। মহানবি (স.)-এর শাফাআত ব্যতীত কিয়ামতের দিন সফলতা, কল্যাণ ও জান্নাত লাভ করা সম্ভব হবে না।

জ. জান্নাত

জান্নাত অর্থ উদ্যান, বাগান, সুশোভিত কানন ইসলামি পরিভাষায় পরকালীন জীবনে পুণ্যবানগণের জন্য পুরস্কার স্বরূপ যে আরামদায়ক স্থান তৈরি করে রাখা হয়েছে তাকে বলা হয় জান্নাত।

জান্নাতে সবধরনের নিয়ামত বিদ্যমান। মুমিনগণ সেখানে চিরকাল অবস্থান করবেন। তাঁরা সেখানে তাঁদের পুণ্যবান মাতা-পিতা, স্ত্রী-পুত্র, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে মিলিত হবেন। তাঁরা যা চাইবেন তাই সাথে সাথে লাভ করবেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “সেখানে (জান্নাতে) তোমাদের জন্য রয়েছে যা কিছু তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা ফরমায়েশ কর। এটি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে আপ্যায়ন।” (সূরা হা-মিম আস-সাজদা, আয়াত ৩১-৩২)

বস্তুত জান্নাতের সুখ-শাস্তি ও নিয়ামত অফুরন্ত। এর বর্ণনা শেষ করা যায় না।

একটি হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহ্ তায়ালা বলেছেন, “আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য (জান্নাতে) এমন সব নিয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোনো চোেখ দেখেনি, কোনো কান কোনোদিন তা শুনেনি এবং কোনো মানব হৃদয় কখনো কল্পনাও করতে পারেনি।” (সহিহ বুখারি)

আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জন্য আটটি জান্নাত তৈরি করে রেখেছেন। এগুলো হলো- (১) জান্নাতুল ফিরদাউস; (২) দারুল মাকাম, (৩) দারুল কারার, (৪) দারুস্সালাম, (৫) জান্নাতুল মাওয়া, (৬) জান্নাতুল আদন, (৭) দারুন নাইম ও (৮) দারুল খুলদ।

জান্নাত চরম সুখের আবাস। দুনিয়াতে যারা ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করে চলবে তারা পরকালে জান্নাত লাভ করবে। সকল কাজকর্মে আল্লাহ তায়ালার আদেশ ও রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করলে জান্নাত লাভ করা সম্ভব হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-
“আর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে জান্নাতই হবে তার আবাস।” (সূরা আন-নাযিআত, আয়াত ৪০-৪১)

ঝ. জাহান্নাম

জাহান্নাম হলো শাস্তির স্থান। পরকালে মুমিনগণের জন্য যেমন জান্নাতের ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি পাপীদের জন্য রয়েছে শাস্তির স্থান। আর জাহান্নামই হলো সে শান্তির জায়গা। জাহান্নামকে (নার) বা আগুনও বলা হয়।

জাহান্নাম চির শাস্তির স্থান। এর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। মানুষের পাপের পরিমাণ অনুসারে শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। জাহান্নামের আগুন অত্যন্ত উত্তপ্ত। রাসুলুল্লাহ্ (স.) বলেছেন

“তোমাদের এ পৃথিবীর আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র।” (সহিহ বুখারি)

এ আগুনে মানুষের হাড়, চামড়া, গোশত সবকিছুই পুড়ে যাবে। কিন্তু তাতে তার মৃত্যু হবে না। বরং আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে পুনরায় তার দেহ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পুনরায় তা পুড়ে দগ্ধ হবে।
এভাবে পুনঃপুনঃ চলতে থাকবে।

জাহান্নাম বিষাক্ত সাপ, বিচ্ছুর আবাসস্থল। সেখানকার খাদ্য হলো বড় বড় কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ। উত্তপ্ত রক্ত ও পুঁজ হবে জাহান্নামিদের পানীয়। মোটকথা জাহান্নাম অতি যন্ত্রণাদায়ক স্থান।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা কুফরি করে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের পোশাক, তাদের মাথার উপর ঢেলে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি, ফলে তাতে তাদের পেটে যা আছে তা এবং তাদের চামড়া বিগলিত হয়ে যাবে, আর তাদের জন্য থাকবে লৌহমুদ্র। যখনই তারা যন্ত্রণায় কাতর হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আর তাদের বলা হবে, আস্বাদন কর দহন-যন্ত্রণা।” (সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ১৯-২২)

পাপীদের শাস্তি দানের জন্য আল্লাহ তায়ালা ৭টি দোযখ তৈরি করে রেখেছেন। এগুলো হলো- (১) জাহান্নাম, (২) হাবিয়া, (৩) জাহিম, (৪) সাকার, (৫) সাইর, (৬) হুতামাহ এবং (৭) লাযা। জাহান্নাম হলো ভীষণ শাস্তির স্থান। কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকরা তথায় চিরকাল শাস্তি ভোগ করবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন
“অনন্তর যে সীমালঙ্ঘন করে এবং দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয় জাহান্নামই হবে তার আবাস।”
(সূরা আন নাযিআত, আয়াত ৩৭-৩৯)

সৎকর্মশীল ও নৈতিকজীবন গঠনে আখিরাতে বিশ্বাসের ভূমিকা:

আখিরাত হলো পরকাল। মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলা হয়। আখিরাত হলো মানুষের অনন্ত জীবন। এটি চিরস্থায়ী। পক্ষান্তরে দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। বস্তুত দুনিয়ার জীবন হলো আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্র।

বলা হয়েছে -“দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।” (প্রবাদ)

মানুষ শস্যক্ষেত্রে যেরূপ চাষাবাদ করে, বীজ বপন করে, যেভাবে পরিচর্যা করে; ঠিক সেরূপই ফল লাভ করে। যদি কোনো ব্যক্তি তার শস্যক্ষেত্রের পরিচর্যা না করে তবে সে ভালো ফসল লাভ করে না। তদ্রূপ দুনিয়ার কাজকর্মের প্রতিদান আখিরাতে দেওয়া হবে। দুনিয়াতে ভালো কাজ করলে আখিরাতে মানুষ পুরস্কৃত হবে। আর মন্দ কাজ করলে শাস্তি ভোগ করবে।

কবর, হাশর, মিযান, সিরাত, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি আখিরাত জীবনের এক একটি পর্যায়। ইসলামি বিশ্বাস মোতাবেক, যে ব্যক্তি ইমান আনে, সৎকর্ম করে সে আখিরাতে শান্তিময় জীবন লাভ করবে। কবর থেকে শুরু করে আখিরাতের প্রতিটি পর্যায়ে সে সুখ, শান্তি ও সফলতা লাভ করবে। অন্যদিকে দুনিয়াতে যে ব্যক্তি অবাধ্য হবে, পাপাচার করবে সে আখিরাতের সকল পর্যায়ে কষ্ট ভোগ করবে। তার স্থান হবে জাহান্নাম।

মানবজীবন গঠনের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে জীবন পরিচালনায় নীতি ও আদর্শের অনুসরণ করতে বাধ্য করে। যে ব্যক্তি আখিরাতে বিশ্বাস করে সে প্রত্যহ তার প্রতিটি কাজের হিসাব নিজেই নিয়ে থাকে। এভাবে দৈনন্দিন আত্মসমালোচনার মাধ্যমে মানুষ তার ভুল-ত্রুটি শোধরিয়ে নিয়ে সৎচরিত্রবান হিসেবে গড়ে ওঠে।

আখিরাতে পুণ্যবানকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করানো হবে। জান্নাত হলো চিরশাস্তির স্থান। জান্নাত লাভের আশা মানুষকে দুনিয়ার জীবনে সৎকর্মশীল করে তোলে। মানুষ জান্নাত ও তার নিয়ামত প্রাপ্তির আশায় নেক আমল করে, ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হয়। কেননা আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা ও সৎকর্ম ব্যতীত জান্নাত লাভ করা যায় না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

“নিশ্চয়ই যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার নিম্নদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। এটাই মহাসাফল্য।” (সূরা আল-বুরূজ, আয়াত ১১)

এভাবে পরকালীন জীবনে জান্নাত লাভের আশা মানুষকে সৎকর্মশীল হতে সাহায্য করে।

জাহান্নাম অতি কষ্টের স্থান। এতে রয়েছে সাপ, বিচ্ছু ও আগুনের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। দুনিয়ার জীবনের পাপী, অবাধ্য ও মন্দ আচরণের লোকদের পরকালে জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

“অনন্তর যে সীমালঙ্ঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেয় জাহান্নামই হবে তার আবাস।” (সূরা আন-নাযিআত, আয়াত ৩৭-৩৯)

জাহান্নামের শাস্তির ভয়ও মানুষকে অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে। দুনিয়াতে আল্লাহ তায়ালার আদেশ না মানা, পার্থিব লোভ লালসার বশবর্তী হয়ে অন্যায় অনৈতিক কাজ করা ইত্যাদি জাহান্নামিদের কাজ। সুতরাং জাহান্নামের ভয়ে মানুষ এসব কাজ থেকে বেঁচে থাকে এবং আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য করে।

আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে বড় বড় অন্যায় এবং অনৈতিক কাজের পাশাপাশি ছোট ছোট পাপ ও অসৎ কাজ থেকেও বিরত রাখে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন

“কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলেও তা সে দেখতে পাবে। আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও সে দেখবে।” (সূরা আল-যিলযাল, আয়াত ৭-৮)

আল্লাহ তায়ালা পরকালে মানুষের সামান্যতম ভালো বা মন্দ কাজ সবই প্রদর্শন করবেন। অতঃপর এগুলোর পুরস্কার বা শাস্তি দেওয়া হবে।

সুতরাং, আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে ছোট-বড়, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব ধরনের অন্যায় থেকে বিরত রাখে এবং পাপমুক্ত, সৎকর্মশীল ও নৈতিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।

Hinduism and Moral Education SSC 6th Week Assignment 2022

Hinduism and Moral Education SSC 6th Week Assignment 2022

বিষয়: হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বিষয় কোড: ১১২, শ্রেণী: এসএসসি ২০২২ (দশম শ্রেণি)।

অ্যাসাইনমেন্ট: সিমা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের কাজ কর্ম এবং শ্রীরামচন্দ্র সম্পর্কে আলোচনা শুনছিল। উল্লেখিত ধর্মীয় আলোচনার বিষয়বস্তুর একটি নিবন্ধ রচনা।

শিখনফল বা বিষয়বস্তু

  • হিন্দু ধর্মের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বর্ণনা করতে পারবে
  • একেশ্বরবাদের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে
  • অবতারদের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে
  • চতুরাশ্রমের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে
  • ধর্মবোধের উদ্বুদ্ধ হবে

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি)

  • হিন্দু ধর্মের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ধারণা
  • হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস এর গুরুত্ব
  • একেশ্বরবাদ এর ব্যাখ্যা
  • অবতারবাদ এর ধারণা
  • চতুরাশ্রমের বর্ণনা
  • পাঠ্যবই
  • শিক্ষক ও বায়োজ্যেষ্ঠদের নিকট থেকে ধারণা গ্রহণ

Hinduism and Moral Education SSC 6th Week Assignment Answer 2022

 

Christianity and Moral Education 6th Week SSC Assignment 2022

Christianity and Moral Education 6th Week SSC Assignment 2022

বিষয়: খ্রিষ্ট ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বিষয় কোড: ১১৪, শ্রেণী: এসএসসি ২০২২ (দশম শ্রেণি)।

অ্যাসাইনমেন্ট: মানবজাতির মুক্তির পথে বাধা বিঘ্নতা সত্বেও, খ্রীষ্টের জীবনাদর্শ বিশ্লেষণ/অনুসরণ পূর্বক মুক্তির সন্ধানে করণীয় নিরূপণ।

শিখনফল বা বিষয়বস্তু

  • প্রথম অধ্যায়: মুক্তির পথে আহবান
  • মুক্তির সাধারণ ধারণা ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারবে;
  • মুক্ত মানুষ হওয়ার উপায় সমূহ বর্ণনা করতে পারবে;
  • মুক্তি সম্পর্কে খ্রীষ্টের শিক্ষাসমূহ বিশ্লেষণ করে নিজেকে মূল্যায়ন নিজের কর্তব্য বর্ণনা করতে পারবে;

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি)

  • মুক্তির ধারণা
  • মুক্তির পথে বাধা সমূহ
  • মুক্ত মানুষ হওয়ার উপায়
  • মুক্তি সম্পর্কে খ্রীষ্টের শিক্ষাসমূহ
  • মুক্তির জন্য করণীয়
  • অ্যাসাইনমেন্টটি ২০০ শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
  • সাইনমেন্টটিতে খ্রিষ্টের সেবামূলক কাজের ১টি ছবি অঙ্কন করতে হবে। (উৎস: পাঠ্যপুস্তক, পবিত্র বাইবেল ও সহায়ক অন্যান্য মাধ্যম)।

6th Week Christianity and Moral Education SSC Assignment Answer 2022

 

Buddhism and Moral Education 6th Week SSC Assignment 2022

Buddhism and Moral Education 6th Week SSC Assignment 2022

ষয়: বৌদ্ধ ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বিষয় কোড: ১১৩, শ্রেণী: এসএসসি ২০২২ (দশম শ্রেণি)।

অ্যাসাইনমেন্ট: সিদ্ধার্থ গৌতম এর জন্ম বৃত্তান্ত ও বুদ্ধত্ব লাভ এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ।

শিখনফল বা বিষয়বস্তু

  • অধ্যায়: প্রথম
  • সিদ্ধার্থের জন্ম কাহিনী বর্ণনা করতে পারবে
  • সিদ্ধার্থের বাল্যকালের বিশেষ ঘটনা গুলো দেখা করতে পারবে
  • সিদ্ধার্থের চারি নিমিত্ত দর্শনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারবে
  • সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগ এর কারণ ব্যাখ্যা করতে পারবে
  • সিদ্ধার্থের বুদ্ধত্ব ও ধর্ম প্রচার সম্পর্কে আলোচনা করতে পারবে

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি)

  • সিদ্ধার্থের জন্ম পরিচয় সম্পর্কে ধারণা
  • সিদ্ধার্থের বাল্যকালের বিশেষ ঘটনার আলোকে নিজ জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে একটি ঘটনা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা
  • সিদ্ধার্থের চারি নিমিত্তের ঘটনা দ্বারা মানব জীবনের উপলব্ধি করে তা ব্যাখ্যা
  • সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগ এর কারণ বর্ণনা ও বর্তমান সমাজে তার বাস্তবতা
  • সিদ্ধার্থ গৌতম এর বুদ্ধত্ব লাভ এর তাৎপর্য
  • প্রয়োজনে পাঠ্যপুস্তক, সিদ্ধার্থের জীবনী বিষয়ক অন্যান্য গ্রন্থ, ইন্টারনেট, শ্রেণী শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহায়তা গ্রহণ করা যাবে
  • এসাইনমেন্ট ২৫০ থেকে ৩৫০ শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

Buddhism and Moral Education 6th Week SSC Assignment 2022

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *