তারাবি নামাজ কি? – কিভাবে শুরু হয়েছিল তারাবির নামাজ?

শুরু হয়েছে রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। মহিমান্বিত এই মাসের অন্যতম একটি আমল তারাবির নামাজ। তারাবি শব্দটি আরবী খাততারবীহাতুন থেকে এসেছে। যার অর্থ বিশ্রাম করা বা প্রশান্তি লাভ করা। নামাজে যেহেতু চার রাকাত পর পর একটু বিশ্রাম নিয়ে তাসবিহ ও দোয়া পাঠ করা হয় তাই এ নামাজকে সালাতুল তারাবি বা তারাবির নামাজ বলা হয়। তারাবির নামাজ এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর এবং বিতরের নামাজের পূর্বে আদায় করা হয়। তারাবির নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। যেটা গুরুত্ব দিক থেকে ওয়াজিবের কাছাকাছি। এ নামাজের রয়েছে অগণিত সোয়াব ও ফজিলত তারাবির নামাজ মুসলমানদের জন্য পাপ মোচনের এক অনন্য সুযোগ। এ সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয় তার তাগিদ দিতেন  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এক হাদীসে মোহাম্মদ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

“যে ব্যক্তি ইমান সহকারে ও সওয়াবের আশায় তারাবিহর নামাজ আদায় করবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।”  (বুখারি ও মুসলিম)

তারাবিহর নামাজের ইতিহাস

তারাবির নামাজের প্রচলন শুরু হয়েছে নবীজির যুগ থেকেই প্রথম দিকে রাসুল সাঃ সাহাবাদের সাথেই তারাবির নামাজ আদায় করতেন। লাগাতার আদায়ের ফলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ হয়ে যাবার আশঙ্কা ছিল। আর যদি ফরজ হয়েই যেত তবে উম্মতের জন্য তা পালন করা হতো অত্যন্ত কষ্টকর। তাই কয়েক দিন সাহাবাদের সাথে আদায় করার পর নবীজি একদিন মসজিদে আসলেন না। একাকি আদায় করলেন এরপর থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত তারাবির নামাজ জামাত সহকারে আদায় করেননি। তিনি পরবর্তীতে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর যুগে এসে পুনরায় জামাত সহকারে তারাবি আদায়ের রীতির প্রচলন হয়। হাদিস শরীফে এসেছে এসেছে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা লোকজনকে উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর পেছনে একত্রিত করে তাদের নিয়ে নামাজ আদায় করলেন আর এটি ছিল তারাবির নামাজের প্রথম জামাত সেই থেকে বর্তমান পর্যন্ত জামাতের সাথে তারাবির নামাজ পড়ার প্রচলন চালু হয়েছে।

তারাবির নামাজের নিয়ম

পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিভিন্ন ইবাদত করে থাকেন। সংযমের এ মাসে তারাবির নামাজ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে তারাবির নামাজ আদায় করেছেন এবং সাহাবীদেরও তা আদায়ের জন্য বলেছেন। তারাবির নামাজের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে বিশ্বনবী বলেন, যিনি মানের সঙ্গে পুণ্য লাভের আশায় রমজানে তারাবির নামাজ শেষ করে তার অতীতের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

1

তারাবির নামাজ কত রাকাত

সম্প্রতি তারাবির নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে নানা বিতর্ক ছড়ানো হচ্ছে তারাবির রাকাত সংখ্যা কত তা নিয়ে হাদিসের কিতাবে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায় তবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও প্রচলিত মনে করা হয় তারাবির নামাজ ২০ রাকাত ইমাম তিরমিজি রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা ও অন্যান্য সাহাবায়ে একরাম থেকে বর্ণিত ২০ রাকাত এর পক্ষে অধিকাংশ আলেম অবস্থান গ্রহণ করেছেন। উলামায়ে কেরামের মতে রমজান মাস নফল আমলের মাস এখানে রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করার কিছু নেই আট রাকাত কেউ পড়লে তাকে নিরুৎসাহিত করা যাবে না আবার কেউ ২০ রাকাত পড়লে তার বিরোধিতা করারও এখতিয়ার নেই কারণ তারাবি ২০ রাকাত সাহাবীদের আমল থেকে চলে আসা একটি আমল তাই বলে আট রাকাত পড়লে যে গুনাহ হবে এমনও কিন্তু নয় তবে তারাবির নামাজ পড়তে তাড়াহুড়া করা যাবে না ধীরে ধীরে আদায় করতে হয় তারাবির নামাজ না হয় নামাজ তাড়াহুড়ো করে শেষ করতে গিয়ে নামাজের মান নষ্ট হতে পারে।

তারাবির নামাজের দোয়া

আরবি: نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر.
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসালি­য়া ল্লিলাহি তাআ’লা, রাকাআ’তাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুল্লিলাহি তাআ’লা। মুতাওয়াযজ্জিহান ইলা যিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার। এছাড়া তারাবির নামাজ যদি জামাআ’তের সঙ্গে আদায় হয় তবে বলতে হবে- ‘ইক্বতাদাইতু বি হাজাল ইমাম’।

তারাবির নামাজের মোনাজাত

আরবি: سبحان ذى الملك والملكوت سبحان ذى العزة والعظمة والهيبة والقدرة والكبرياء والجبروت . سبحان الملك الحى الذى لاينام ولا يموت ابدا ابدا سبوح قدوس ربنا ورب الملئكة والروح.

উচ্চারণ: ‘সুব্হানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুব্হানাযিল ইয্যাতি, ওয়াল আয্মাতি, ওয়াল হাইবাতি, ওয়াল কুদরাতি, ওয়াল কিবরিয়াই, ওয়াল যাবারুত। সুব্হানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা-ইয়াানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা। সুব্বুহুন কুদ্দুছুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।’

আরবি: اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ – اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আঝিঝু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া ঝাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আঝিরনা মিনান নার। ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল

tarabir-nazam-sunnot-naki-nofol

Total Views: 12 ,